নিজস্ব প্রতিবেদক:
সীমান্তবর্তী সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় মানবপাচার, পুশইন (অবৈধ অনুপ্রবেশ), মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার লক্ষ্যে টাস্কফোর্স কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সুনন্দা রায়। সভা পরিচালনা করেন জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম, জৈন্তাপুর বিওপির কমান্ডার সিকান্দার আলী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সিলেটের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) চান মিয়া।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম, ৩নং চারিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান করিম, ৪নং দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, ৫নং ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক আহমেদ, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সারওয়ার বিলাল, সাবেক সভাপতি ফয়েজ আহমেদ, সহ-সভাপতি আব্দুল হালিম, সাধারণ সম্পাদক দুলাল আহমেদ রাজুসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা। পাশাপাশি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নারী-পুরুষ ইউপি সদস্য এবং গ্রাম পুলিশ সদস্যরাও সভায় অংশ নেন।
সভায় প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকার মানবপাচার, পুশইন, মাদক ও চোরাচালানের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে এসব অপরাধ প্রতিরোধে বিভিন্ন সুপারিশ উপস্থাপন করেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবপাচার, পুশইন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়। এসব অপরাধ কার্যকরভাবে দমনে প্রশাসন, বিজিবি, পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ, গণমাধ্যম এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত ও সচেতন ভূমিকা অপরিহার্য। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং সন্দেহজনক যেকোনো তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, আগামী শুক্রবার উপজেলার প্রতিটি মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে মাদক, মানবপাচার, পুশইন ও চোরাচালানের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার জন্য ইমাম, পুরোহিত এবং অন্যান্য ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
সভায় সাংবাদিকরা মানবপাচার, পুশইন ও চোরাচালান প্রতিরোধে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সংবাদমাধ্যমের কার্যকর অবদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মিজ সুনন্দা রায় বলেন, সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুরকে মানবপাচার, পুশইন, মাদক ও চোরাচালানমুক্ত রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সমন্বিত উদ্যোগ, তথ্যভিত্তিক নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এসব অপরাধ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সভা শেষে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ইউএনও উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানবপাচার, পুশইন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।