জলাবদ্ধতা ও বর্জ্যমুক্ত সবুজ নগর গড়াই লক্ষ্য: ঠিকাদারদের কাজ ফেলে না রাখার নির্দেশ সিসিক প্রশাসকের
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, জলাবদ্ধতা ও বর্জ্যমুক্ত একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগর গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগী, ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
রোববার (২১ জুন) বিকেলে নগর ভবনের ষষ্ঠ তলার সভাকক্ষে সিলেট সিটি কর্পোরেশন কন্ট্রাক্টর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সরকারের উন্নয়ন দর্শন বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং নগরকে একটি ‘গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ কাজে ঠিকাদাররা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সফল বাস্তবায়নে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ঠিকাদারদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো ফাইল অযথা আটকে রাখা হচ্ছে না এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনতে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার চেষ্টা চলছে। কোথাও অনিয়ম, হয়রানি বা অনৈতিক সুবিধা চাওয়ার ঘটনা ঘটলে তা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী কিংবা সরাসরি তাঁকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
ঠিকাদার নিয়োগ ও টেন্ডার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে সিসিক প্রশাসক বলেন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর)-এ বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে, যেখানে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নতুন ঠিকাদারদের অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়ানো হবে। এতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং উন্নয়ন কাজের গতি ত্বরান্বিত হবে।
তিনি আরও বলেন, সকল ঠিকাদার ছোট-বড় যেকোনো কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে কাজ নিয়ে গাফিলতি, দীর্ঘসূত্রতা কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রকল্পগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি ঈদুল আজহায় আট ঘণ্টার মধ্যে পুরো নগরী পরিষ্কার করার যে চ্যালেঞ্জ নেওয়া হয়েছিল, তা সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। এটি সিটি কর্পোরেশন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং নগরবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।
তিনি আরও বলেন, নগর পরিচ্ছন্নতা ও উন্নয়ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও প্রশংসিত হয়েছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই অর্জন ধরে রেখে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, জলাবদ্ধতা ও বর্জ্যমুক্ত সবুজ নগর গড়ে তুলতে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) রজি উদ্দিন খান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশন কন্ট্রাক্টর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাসুম ইফতেখার রসুল শিহাব এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত আহমদ মনির।
এ সময় বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।