Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সিলেট রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
জৈন্তেশ্বরী রাজবাড়ীতে মেলার নামে পুরাকীর্তি ক্ষতিগ্রস্তের অভিযোগ, স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদ

জৈন্তেশ্বরী রাজবাড়ীতে মেলার ট্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা, প্রশাসনের তদন্ত শুরু

২১ জুন ২০২৬ • ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার।

সিলেটের জৈন্তাপুরে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘জৈন্তেশ্বরী রাজবাড়ী’তে মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনসহ ১৭ পরগনা সালিশ সমন্বয় কমিটি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ইতোমধ্যে মেলার কার্যক্রম বন্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন ‘মণিপুরী মহিলা উন্নয়ন সংস্থা’ বাণিজ্য ও শিল্প মেলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজবাড়ী এলাকায় কার্যক্রম শুরু করে। এ সময় মেলার সরঞ্জামবাহী ট্রাক প্রবেশ করলে ঐতিহাসিক রাজবাড়ীর প্রধান ফটক, সিঁড়িসহ বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৬ জুন জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। সভায় উপস্থিত মুরব্বি ও রাজনৈতিক নেতারা দাবি করেন, জেলা প্রশাসনের অনুমোদিত এই মেলা প্রত্নতত্ত্ব সংরক্ষণ আইনের পরিপন্থী। তারা অবিলম্বে মেলা বন্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা সংস্কারের দাবি জানান।


এরপর ১৭ জুন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, জৈন্তাপুর রাজবাড়ী একটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি। ১৯৬৮ সালের (সংশোধিত ১৯৭৬) এন্টিকুইটিজ অ্যাক্টের ১৩(৩) ধারা অনুযায়ী সংরক্ষিত স্থাপনায় ক্ষতি করা বা এর নিকটে নির্মাণকাজ দণ্ডনীয় অপরাধ। চিঠিতে আরও বলা হয়, এ স্থানে মেলা বা জনসমাগম আয়োজনের অনুমতি দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই এবং বিষয়টি মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন আকারে পাঠানো হয়েছে।


এদিকে ১৯ জুন উপজেলা সদরে ১৭ পরগনা সালিশ সমন্বয় কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, জৈন্তা রাজ্যের ইতিহাস-ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই রাজবাড়ীকে মেলার নামে ক্ষতিগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা সরকারের কাছে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।


সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত মেলার সরঞ্জাম অপসারণ এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।


বর্তমানে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com