Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সিলেট রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

ওসমানীনগরে ওয়াশব্লক প্রকল্পে স্বচ্ছতার সংকট, তালিকা ও বাস্তবতায় মিল নেই

১০ জুন ২০২৬ • ১২:২৬ অপরাহ্ন

আপনার দেওয়া তথ্য ও বক্তব্যের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রেখে, আরও পেশাদার ও অনুসন্ধানধর্মী উপস্থাপনায় নিচের মতো করে সংবাদটি সাজানো যেতে পারে।


আকর্ষণীয় শিরোনাম:


ওসমানীনগরে ওয়াশব্লক প্রকল্পের তালিকা নিয়ে রহস্য, একাধিক স্থাপনার নাম নেই—অসমাপ্ত কাজ ও নিম্নমানের নির্মাণে ক্ষোভ


উপশিরোনাম:


অসম্পূর্ণ তথ্য সরবরাহের অভিযোগ; ঠিকাদার পরিবর্তন, বছরের পর বছর ঝুলে থাকা প্রকল্প এবং নির্মাণমান নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন


মোঃ ফজলু মিয়া, ওসমানীনগর (সিলেট):


ওসমানীনগর উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়িত ওয়াশব্লক (WASH Block) প্রকল্পগুলোর তালিকা, নির্মাণমান এবং বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তথ্য চাওয়ার পর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয় থেকে যে প্রকল্প তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে, তা পূর্ণাঙ্গ নয়। বরং একাধিক নির্মিত বা নির্মাণাধীন ওয়াশব্লকের তথ্য ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।


অভিযোগ অনুযায়ী, সাদিপুর বাজার ও খাদিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্মিত বা নির্মাণাধীন ওয়াশব্লক প্রকল্পের নাম সরবরাহকৃত তালিকায় নেই। এতে উপজেলায় মোট কতটি ওয়াশব্লক নির্মিত হয়েছে এবং কতগুলো প্রকল্প এখনও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।


উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয় থেকে পাওয়া তালিকায় খয়েরপুর মার্কেট মসজিদ, প্রথমপাশা মাদ্রাসা, কলঘর বাজার, রাখালগঞ্জ বাজার, রাধামাধব জিউর মন্দির, কলারাই বাজার জামে মসজিদ, উসমানপুর ঈদগাহ, খসরুপুর বাজার জামে মসজিদ, উত্তর কালনিরচর বাজার ও দয়ামীর বাজারসহ কয়েকটি স্থানের নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, তালিকাভুক্ত অনেক প্রকল্পের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।


এদিকে প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, পূর্বে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক ঠিকাদার কয়েকটি প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যাওয়ায় পরবর্তীতে নতুনভাবে কাজ সম্পন্নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রথমপাশা, সাদিপুরসহ একাধিক স্থানের ওয়াশব্লক প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে এবং বর্তমানে অবশিষ্ট কাজ শেষ করার লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে ছবি সংগ্রহ ও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।


তিনি আরও জানান, পূর্ববর্তী ঠিকাদার নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন না করায় কয়েকটি প্রকল্প বছরের পর বছর অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বর্তমানে নতুন করে মিস্ত্রি নিয়োগ এবং বাকি কাজ শেষ করার প্রস্তুতি চলছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি ওয়াশব্লক প্রকল্প এখনও সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়নি। কোথাও নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে, আবার কোথাও আংশিক কাজ শেষ হলেও প্রকল্পগুলো জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী হয়নি। ফলে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা।


অন্যদিকে, একাধিক প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, কোথাও ইটের গাঁথুনি দুর্বল, কোথাও কংক্রিটের কাজ মানসম্মত নয়। রড ও সিমেন্ট ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। কিছু স্থাপনায় দেয়ালে ফাটল, প্লাস্টার খসে পড়া এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা গেছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এসব প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্কুল, মাদ্রাসা, বাজার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, অসমাপ্ত কাজ এবং নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


এদিকে স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওয়াশব্লক প্রকল্পে অনিয়ম, অসমাপ্ত কাজ এবং প্রকল্প তালিকা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও জনমনে আলোচনা শুরু হওয়ার পর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দিদারুল ইসলাম কায়েসের নির্দেশনায় কয়েকজন প্রতিনিধিকে বিভিন্ন প্রকল্প এলাকায় পাঠানো হয়। তারা অসমাপ্ত ওয়াশব্লকের ছবি সংগ্রহ, কাজের বর্তমান অবস্থা যাচাই এবং কতটুকু কাজ বাকি রয়েছে সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন বলে জানা গেছে।


তবে এই পরিদর্শন কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির অংশ, নাকি প্রকাশিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম কায়েস দীর্ঘদিন ধরে ওসমানীনগরে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে প্রকল্পসমূহের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, বরাদ্দ, নির্মাণমান, ঠিকাদার নিয়োগ, তদারকি এবং কাজের অগ্রগতি বিষয়ে তাঁর কার্যালয়ের কাছ থেকে স্বচ্ছ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।


স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার সব ওয়াশব্লক প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, প্রকল্পভিত্তিক ব্যয় ও ঠিকাদারদের তথ্য উন্মুক্তকরণ, নিম্নমানের নির্মাণকাজ তদন্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রকল্প দ্রুত সম্পন্নে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।


স্থানীয়দের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রকল্পগুলো দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করা হলে সরকারি সেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com