Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সিলেট রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

জাল ছুটির আদেশে বিদেশে পাড়ি, ৩ বছর ধরে স্কুলে অনুপস্থিত সহকারী শিক্ষিকা; তদন্তে শিক্ষা বিভাগ

০৫ জুন ২০২৬ • ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ওসমানীনগর, সিলেট।

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গাবুরটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বহিঃবাংলাদেশ ছুটির আদেশ জালিয়াতির মাধ্যমে কর্মস্থল ত্যাগ করে দীর্ঘ তিন বছর ধরে অনুপস্থিত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন এবং জালিয়াতির আশ্রয়ে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি বিদেশ অবস্থানের বিষয়টি বর্তমানে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ নিশ্চিত করেছে।


অনুসন্ধান ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নামে জারি করা একটি বহিঃবাংলাদেশ ছুটির আদেশ প্রদর্শন করে দেশ ত্যাগ করেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আনয়ারা বেগম। তবে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেননি। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর অনুপস্থিতির পর ছুটির আদেশটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তীতে অভিযোগ উঠে, আদেশটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল। বিষয়টি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের নজরে এলে শুরু হয় তদন্ত।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, জালিয়াতির মাধ্যমে ছুটির আদেশ তৈরি করে বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করছেন ওই শিক্ষিকা। তাঁদের মতে, একজন সরকারি শিক্ষকের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।


এ বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের এক সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,

“উক্ত শিক্ষিকার ছুটির আদেশের সত্যতা যাচাই ও দীর্ঘ অনুপস্থিতির বিষয়ে জেলা ও বিভাগীয় তদন্ত দল ইতোমধ্যে সরেজমিন তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।”


প্রশাসনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন,

“অভিযুক্ত শিক্ষিকার সব ধরনের বেতন-ভাতা ও রাষ্ট্রীয় আর্থিক সুবিধা ইতোমধ্যে স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্তের এখতিয়ার উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয়ের নেই। এটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন। আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও সরেজমিন প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করেছি। তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তিসাপেক্ষে বিধি অনুযায়ী চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


এদিকে, স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে ঘটনার দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও দীর্ঘ তিন বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ ওঠার পরও চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা দেখা যাচ্ছে। এতে গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।


তাঁরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।


অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষিকার ব্যক্তিগত যোগাযোগমাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি প্রবাসে অবস্থান করায় তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ছুটির আদেশ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com