বিজিবির কঠোর হুঁশিয়ারি: সীমান্তে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের রেহাই নেই
জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি: সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি)। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে জৈন্তাপুরের লালাখাল বিওপির ব্যবস্থাপনায় লালাখাল রিসোর্ট ঘাট রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ১৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জুবায়ের আনোয়ার, পিএসসি।
বক্তব্যের শুরুতেই বিজিবির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা দেন তিনি। কেউ বিজিবি বা কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে অর্থ দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে বিজিবিকে জানাতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান এবং এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
রাতের আঁধারে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানে জড়িতদের কঠোরভাবে দমন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব কাজে সহযোগিতা করলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অপ্রয়োজনে রাতের বেলায় চলাচল না করার জন্য স্থানীয়দের সতর্ক করেন।
তথাকথিত ‘লাইনম্যান’ বা দালাল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রমাণসহ অভিযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভিডিও বা অডিওসহ সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারী নদীর বালু মহাল নিয়ে বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে অধিনায়ক জানান, সারিঘাট থেকে লালাখাল জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সারী-২ ও সারী-৩ মহালের মধ্যে সারী-৩-এর ইজারা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। উচ্চ আদালতের রিটের কারণে প্রশাসনের উপস্থিতিতে খুঁটি ও পতাকার মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সীমার বাইরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন না করতে তিনি সতর্ক করেন।
সীমান্তবর্তী জনগণের কল্যাণে বিজিবির উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি জানান, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পসহ বিভিন্ন জনহিতকর কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি স্থানীয়দের জীবনমান উন্নয়নে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সভা শেষে তিনি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা সজাগ রয়েছে, তবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং চোরাচালানমুক্ত সীমান্ত গড়তে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।
সভায় উপস্থিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিজিবির এমন মানবিক ও পেশাদার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং সীমান্ত সুরক্ষায় পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেন।
স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “বিজিবির এমন কঠোর অবস্থান সত্যিই প্রশংসনীয়। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও দালাল চক্র বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
অন্যদিকে একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “বিজিবি যদি নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান জোরদার রাখে, তাহলে সীমান্ত এলাকায় অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে। আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”