স্টাফ রিপোর্টার।।
মৌলভীবাজারে এক টমটম চালক কে দুবাই প্রবাসে পাঠাতে না পারায় টাকা আত্মসাথের অভিযোগে দালালের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ উঠায় প্রতিপক্ষ মামলাটিকে ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে নানাভাবে হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন তৈরি কালে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর থানার ফতেহপুর ইউনিয়নের মুনিয়ারপাড় গ্রামের মৃত খোরশেদ আলী খানের পুত্র জামাল আহমদ খানকে একই থানার মেদিনিমহল গ্রামের সমছু খানের ছেলে সুজন খান কাজের ভিসায় দুবাই প্রবাসে পাঠাবে বলে দুই কিস্তিতে তিন লক্ষ টাকা গত ৯ এপ্রিল ২০২৪ ইং তারিখে ২০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্টাম্পে চুক্তি নামা করে টাকা দেয়া হয়। কিন্তু টাকা দেয়ার ৬ মাসের পরেও সুজন মিয়া জামাল আহমদ খান কে দুবাই পাঠাতে না পারায় ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাওয়ায় সুজন মিয়া গং জামাল আহমদ খান কে বলে, কিসের দুবাই কিসের টাকা। টাকা চাইতে গেলে সুজন মিয়া গং বিবাদীর উপর আক্রোশানিত হইয়া লেনদেন অস্বীকার করিয়া বাদীর উপর বাশের লাঠি হাতে নিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে ফুলাজখম ও নানাভাবে আহত করে এবং হুমকি দেয়। এমতাবস্থায় এলাকায় বিচার প্রার্থী হলে ব্যর্থ হয়। ফলে নিরুপায় হয় ভুক্তভোগী জামাল আহমদ খান গত ২/২/২০২৫ ইং তারিখে সুজন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং সি আর ৩৭/২৫। কিন্তু মামলা দেয়ার পর থেকে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং মামলাটি বিনা বিচারে প্রত্যাহার করিয়া নেওয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে। তারা বলে, মামলা প্রত্যাহার না করলে জামাল আহমদ খানকে রাস্তায় পেলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।
এমন সময় মৌলভীবাজার শহরে আসার উদ্দেশ্যে বসতবাড়ি হইতে রওয়ানা হইয়া আসামি পক্ষগণের বাড়ির সামনে পৌঁছামাত্র জামাল আহমদ খানকে দেখিতে পাইয়া দ্বিতীয় পক্ষগণ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, দা, লাঠি-শোটা ইত্যাদি সহকারে বাদীকে হত্যার জন্য আক্রমণ করে তখন বাদী প্রাণ রক্ষার্থে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। ফলে কোনরকম প্রাণ রক্ষা পায়। এদিকে গত ১/৩/২০২৫ ইং তারিখে বাদী তাহার মালিকানাধীন বোরো ক্ষেতের ভূমিতে কাজ করতে থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষ আবারো জামাল আহমদ খানকে মারার জন্য দা, লাঠি-শোটা নিয়ে আক্রমণের চেষ্টা চালায় তখন তাহার চিৎকারে আশপাশের লোক এগিয়ে আসলে প্রাণ রক্ষা পায়। তাহারা বলে মামলা প্রত্যাহার না করলে বাদীর বাড়িঘর জ্বালাইয়া পুড়াইয়া শেষ করে দিবে এবং তাকে এলাকা ছাড়া করবে। কিন্তু বাদীর প্রাণনাশের আশঙ্কা যেকোনো মুহূর্তে বিদ্যমান। এমতাবস্থায় সুজন গংদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনের ১০৭/১১৪/১১৭ ধারার বিধান মতে আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু পুলিশের রহস্যজনক নিরব ভূমিকায় দেখা গেছে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টায় রয়েছে। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের একজন সাক্ষীর বক্তব্য দেখা গেছে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। কারণ সাক্ষী সোহেল আহমদ একজন ওয়ার্ড মেম্বার। তিনি বিষয়টি কিছুই জানেন না। ওই মেম্বারের সাথে ফোনে আলাপ কালে মেম্বার জানান, এ ব্যাপারে পুলিশের সাথে আমার কোনো সাক্ষাৎই হয়নি এবং এ ব্যাপারে কোন বক্তব্য আমি দেইনি। পুলিশ যে বক্তব্য আমার সম্পর্কে উপস্থাপন করেছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানিনা বলে মেম্বার সোহেল আহমদ জানান। তবে এ ব্যাপারে কর্তব্যরত তদন্তকারী অফিসার প্রদ্যুত রায় এর সাথে ফোনে আলাপ কালে জানান, সোহেল আহমদ সাক্ষীর জবানবন্দী নামটি ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আদালত দেখবে বলে তিনি জানান। এদিকে বাদী জামাল আহমদ খান নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি এখন এলাকা ছাড়া। তিনি জানান, নিরাপত্তাহীনতার ব্যাপারে পুলিশকে জানালেও পুলিশ রহস্যজনক ভাবে নিরব ভূমিকা পালন করছে। ফলে আমি এখন বিবাদীদের প্রাণ নাশের হুমকির ভয়ে প্রাণ বাঁচাতে আমি এখন এলাকাছাড়া। তবে আসামিগণকে গ্রেফতার ও সুষ্ঠু বিচারসহ আমার ক্ষতিপূরণ আদায় না করলে আমি শারীরিক ও মানসিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ব। এমতাবস্থার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আমার আকুল আবেদন যে আমার মামলাটি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে যেন আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়।