ঢাকা ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১২ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল: ধ্বংসের মুখে জামালগঞ্জের তেরানগর ব্রিজ

  • Channel Jainta News 24
  • প্রকাশিত: ০৩:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৮ পড়া হয়েছে
২৯

মো. শাহীন আলম, নিজস্ব প্রতিবেদক::

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের একমাত্র যোগাযোগ পথ তেরানগর ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরেই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও প্রতিদিন শত শত মানুষ বাধ্য হয়ে এই পুরোনো, জীর্ণ ও দেবে যাওয়া কাঠামোর ওপর দিয়ে পারাপার করছেন। ছোট যানবাহন থেকে পথচারী-সকলের জন্যই এটি যেন মৃত্যুফাঁদ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে বহু প্রতিশ্রুতি পেলেও বাস্তব উন্নয়নকাজের দেখা মেলেনি। দক্ষিণাঞ্চলের ৩০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জন্য এটি একমাত্র চলাচলের পথ। পরিত্যক্ত ঘোষণার পর কেটে গেছে ১২ বছর, কিন্তু এখনো হয়নি স্থায়ী সমাধান। সিমেন্ট-সুরকি খসে পড়া, উন্মুক্ত লোহার রড বেরিয়ে থাকা, বিভিন্ন অংশ দেবে যাওয়া-এসব কারণে অটো, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল চালানো চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত একযুগে এ এলাকায় ঘটেছে প্রায় দেড় শতাধিক দুর্ঘটনা

ইজিবাইক চালক স্বপন বলেন, “পেটের দায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজে উঠতে হয়। হুইল পিছলে গেলে গাড়ি নিচে পড়ে যাওয়ার ভয় থেকে যায় সব সময়। কিন্তু বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে চলাচল করি।”

পথচারী গীতারাণি জানান, “ব্রিজে উঠলেই মনে হয় দেবে যাবে। বাচ্চা নিয়ে পার হওয়া দুঃস্বপ্নের মতো। সারা দেশে উন্নয়ন হলেও আমরা যেন মৃত্যুফাঁদে হাঁটি।”

 

পথচারী কাসেম মিয়া বলেন, “ব্রিজ ভাঙা থাকায় গাড়িচলাচল কমে গেছে। মালপত্র আনা-নেয়ায় কষ্ট হয়, ভাড়াও বেশি লাগে।”

কৃষকদেরও একই অভিযোগ-বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস মিলছে। তাদের ভাষায়, “বাঁশের সাঁকোর কথা শোনাই, কিন্তু স্থায়ী সমাধান আজও হয়নি। বছরে একমাত্র ফসল বোরো ধান। সার, বীজ, কৃষি উপকরণ আনতে-নিতে এবং ফসল ঘরে তুলতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় এই ব্রিজের কারণে।”

ভীমখালি ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান তালুকদার বলেন, “তেরানগর ব্রিজের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে আমি বহুবার এলজিডি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তেরানগর ব্রিজসহ ইউনিয়নের আরও কয়েকটি ব্রীজ ঝুঁকিপূর্ণ। জনস্বার্থে এগুলোর দ্রুত সংস্কার ও পুনর্নিমাণ খুবই জরুরি।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ছানোয়ার হোসেন বলেন, “জামালগঞ্জে দীর্ঘদিন কোনো ব্রিজে বড় ধরনের সংস্কার বা নতুন নির্মাণ হয়নি। তেরানগর ব্রিজের কাগজপত্র নতুন করে প্রেরণ করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে পাঁচটি ব্রিজের প্রকল্প পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে তেরানগর ব্রিজ অন্যতম। চলতি মৌসুমেই ৯৬ মিটার দৈর্ঘ্যের নতুন ব্রিজ নির্মাণের অনুমোদন পাওয়ার আশা করছি।”

 

দীর্ঘ এক যুগ ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের এখন একটাই দাবি-অস্থায়ী সংস্কার নয়, দ্রুত স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বা কাগজপত্রের জটিলতায় আর সময় নষ্ট নয়; তেরানগর ব্রিজই জামালগঞ্জ দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন।

ট্যাগ:

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনি কমেন্ট করতে ইচ্ছুক?

সাংবাদিকদের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বনাথে নিয়ামতিয়া এইড এন্ড ইন্টারন্যাশনাল ইউকের শীত বস্ত্র বিতরণ

Follow for More!

১২ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল: ধ্বংসের মুখে জামালগঞ্জের তেরানগর ব্রিজ

প্রকাশিত: ০৩:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
২৯

মো. শাহীন আলম, নিজস্ব প্রতিবেদক::

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের একমাত্র যোগাযোগ পথ তেরানগর ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরেই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও প্রতিদিন শত শত মানুষ বাধ্য হয়ে এই পুরোনো, জীর্ণ ও দেবে যাওয়া কাঠামোর ওপর দিয়ে পারাপার করছেন। ছোট যানবাহন থেকে পথচারী-সকলের জন্যই এটি যেন মৃত্যুফাঁদ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে বহু প্রতিশ্রুতি পেলেও বাস্তব উন্নয়নকাজের দেখা মেলেনি। দক্ষিণাঞ্চলের ৩০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জন্য এটি একমাত্র চলাচলের পথ। পরিত্যক্ত ঘোষণার পর কেটে গেছে ১২ বছর, কিন্তু এখনো হয়নি স্থায়ী সমাধান। সিমেন্ট-সুরকি খসে পড়া, উন্মুক্ত লোহার রড বেরিয়ে থাকা, বিভিন্ন অংশ দেবে যাওয়া-এসব কারণে অটো, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল চালানো চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত একযুগে এ এলাকায় ঘটেছে প্রায় দেড় শতাধিক দুর্ঘটনা

ইজিবাইক চালক স্বপন বলেন, “পেটের দায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজে উঠতে হয়। হুইল পিছলে গেলে গাড়ি নিচে পড়ে যাওয়ার ভয় থেকে যায় সব সময়। কিন্তু বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে চলাচল করি।”

পথচারী গীতারাণি জানান, “ব্রিজে উঠলেই মনে হয় দেবে যাবে। বাচ্চা নিয়ে পার হওয়া দুঃস্বপ্নের মতো। সারা দেশে উন্নয়ন হলেও আমরা যেন মৃত্যুফাঁদে হাঁটি।”

 

পথচারী কাসেম মিয়া বলেন, “ব্রিজ ভাঙা থাকায় গাড়িচলাচল কমে গেছে। মালপত্র আনা-নেয়ায় কষ্ট হয়, ভাড়াও বেশি লাগে।”

কৃষকদেরও একই অভিযোগ-বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস মিলছে। তাদের ভাষায়, “বাঁশের সাঁকোর কথা শোনাই, কিন্তু স্থায়ী সমাধান আজও হয়নি। বছরে একমাত্র ফসল বোরো ধান। সার, বীজ, কৃষি উপকরণ আনতে-নিতে এবং ফসল ঘরে তুলতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় এই ব্রিজের কারণে।”

ভীমখালি ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান তালুকদার বলেন, “তেরানগর ব্রিজের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে আমি বহুবার এলজিডি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তেরানগর ব্রিজসহ ইউনিয়নের আরও কয়েকটি ব্রীজ ঝুঁকিপূর্ণ। জনস্বার্থে এগুলোর দ্রুত সংস্কার ও পুনর্নিমাণ খুবই জরুরি।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ছানোয়ার হোসেন বলেন, “জামালগঞ্জে দীর্ঘদিন কোনো ব্রিজে বড় ধরনের সংস্কার বা নতুন নির্মাণ হয়নি। তেরানগর ব্রিজের কাগজপত্র নতুন করে প্রেরণ করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে পাঁচটি ব্রিজের প্রকল্প পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে তেরানগর ব্রিজ অন্যতম। চলতি মৌসুমেই ৯৬ মিটার দৈর্ঘ্যের নতুন ব্রিজ নির্মাণের অনুমোদন পাওয়ার আশা করছি।”

 

দীর্ঘ এক যুগ ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের এখন একটাই দাবি-অস্থায়ী সংস্কার নয়, দ্রুত স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বা কাগজপত্রের জটিলতায় আর সময় নষ্ট নয়; তেরানগর ব্রিজই জামালগঞ্জ দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন।