ঢাকা ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীপুর ৩ আসন ভোটের হাওয়া

  • Channel Jainta News 24
  • প্রকাশিত: ১১:৫১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৯ পড়া হয়েছে
৩১

লক্ষ্মীপুর: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে লক্ষ্মীপুরে। সদর আসন লক্ষ্মীপুর-৩-এ বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী এবং সমর্থকরা মাঠে সরব। দলীয় মনোনীত প্রার্থীরা পাড়া-মহল্লায় ছুটছেন, ভোটারদের সঙ্গে আচার অনুষ্ঠান ও উঠান বৈঠক করছেন, পাশাপাশি উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

 

এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং জামায়াতের প্রার্থী ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম মুখ্য প্রতিদ্বন্দ্বী। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীরা এখনো উল্লেখযোগ্য প্রচারণায় নেই।

 

লক্ষ্মীপুর-৩ আসন সদর উপজেলা ও ১২টি ইউনিয়ন এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভা নিয়ে গঠিত। হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার ৪ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৪ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ জন, এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন।

 

বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “নির্বাচনকে সহজভাবে নিচ্ছি না। চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। বিস্তৃত প্রচারণা চালাচ্ছি। গ্রামের মানুষের কাছে যাচ্ছি, বেকারত্ব দূরীকরণ, নারী অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় সচেষ্ট আছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিগত দিনেও মানুষের পাশে ছিলাম, সামনেও থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। মানুষও ব্যাপক সাড়া দিচ্ছে।”

 

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমও মাঠে সমান তালে ভোটারদের কাছে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “উন্নয়ন বঞ্চিত লক্ষ্মীপুরে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল, নারী শিক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিল্প কারখানা স্থাপনসহ সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখব।”

 

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী অনারারী ক্যাপ্টেন মো. ইব্রাহীম সামান্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, “মাদক ও দুর্নীতি বন্ধে কাজ করতে চাই। ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার কথাও তুলে ধরছি।”

 

ভোটারদের প্রত্যাশা রয়েছে, মাদক-সন্ত্রাস রোধ, চাঁদাবাজি বন্ধ, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, নারী অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে এমন প্রার্থী বেছে নেওয়া। একই সঙ্গে তারা চাইছেন ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকুক।

 

১৯৮৪ সালে লক্ষ্মীপুর জেলা গঠিত হয়। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি মনোনীত মোহাম্মদ উল্লাহ এমপি হন। ১৯৮৮ সালে সম্মিলিত বিরোধী দল থেকে আবদুচ ছাত্তার মাস্টার, ১৯৯১ সালে বিএনপি থেকে খায়রুল এনাম, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নুরুল আমিন ভূঁইয়া ও জুনে খায়রুল এনাম জয়ী হন। ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপি থেকে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি নির্বাচিত হন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে বিতর্কিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি হন। ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শাহজাহান কামালের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে উপ-নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের একতরফা নির্বাচনে পিংকু আবার নির্বাচিত হন।

ট্যাগ:

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনি কমেন্ট করতে ইচ্ছুক?

সাংবাদিকদের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বনাথে নিয়ামতিয়া এইড এন্ড ইন্টারন্যাশনাল ইউকের শীত বস্ত্র বিতরণ

Follow for More!

লক্ষ্মীপুর ৩ আসন ভোটের হাওয়া

প্রকাশিত: ১১:৫১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
৩১

লক্ষ্মীপুর: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে লক্ষ্মীপুরে। সদর আসন লক্ষ্মীপুর-৩-এ বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী এবং সমর্থকরা মাঠে সরব। দলীয় মনোনীত প্রার্থীরা পাড়া-মহল্লায় ছুটছেন, ভোটারদের সঙ্গে আচার অনুষ্ঠান ও উঠান বৈঠক করছেন, পাশাপাশি উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

 

এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং জামায়াতের প্রার্থী ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম মুখ্য প্রতিদ্বন্দ্বী। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীরা এখনো উল্লেখযোগ্য প্রচারণায় নেই।

 

লক্ষ্মীপুর-৩ আসন সদর উপজেলা ও ১২টি ইউনিয়ন এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভা নিয়ে গঠিত। হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার ৪ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৪ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ জন, এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন।

 

বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “নির্বাচনকে সহজভাবে নিচ্ছি না। চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। বিস্তৃত প্রচারণা চালাচ্ছি। গ্রামের মানুষের কাছে যাচ্ছি, বেকারত্ব দূরীকরণ, নারী অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় সচেষ্ট আছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিগত দিনেও মানুষের পাশে ছিলাম, সামনেও থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। মানুষও ব্যাপক সাড়া দিচ্ছে।”

 

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমও মাঠে সমান তালে ভোটারদের কাছে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “উন্নয়ন বঞ্চিত লক্ষ্মীপুরে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল, নারী শিক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিল্প কারখানা স্থাপনসহ সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখব।”

 

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী অনারারী ক্যাপ্টেন মো. ইব্রাহীম সামান্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, “মাদক ও দুর্নীতি বন্ধে কাজ করতে চাই। ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার কথাও তুলে ধরছি।”

 

ভোটারদের প্রত্যাশা রয়েছে, মাদক-সন্ত্রাস রোধ, চাঁদাবাজি বন্ধ, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, নারী অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে এমন প্রার্থী বেছে নেওয়া। একই সঙ্গে তারা চাইছেন ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকুক।

 

১৯৮৪ সালে লক্ষ্মীপুর জেলা গঠিত হয়। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি মনোনীত মোহাম্মদ উল্লাহ এমপি হন। ১৯৮৮ সালে সম্মিলিত বিরোধী দল থেকে আবদুচ ছাত্তার মাস্টার, ১৯৯১ সালে বিএনপি থেকে খায়রুল এনাম, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নুরুল আমিন ভূঁইয়া ও জুনে খায়রুল এনাম জয়ী হন। ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপি থেকে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি নির্বাচিত হন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে বিতর্কিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি হন। ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শাহজাহান কামালের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে উপ-নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের একতরফা নির্বাচনে পিংকু আবার নির্বাচিত হন।