ঢাকা ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লাখাইয়ের করাবে টিসিবি পণ্য বিতরণে অনিয়ম: ১৪২ কার্ডধারীর মাল ‘না পাওয়ার অভিযোগ

  • Channel Jainta News 24
  • প্রকাশিত: ১১:১৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৩ পড়া হয়েছে
৩৯

ডিলার-সুবিধাভোগীদের বাকবিতণ্ডা!

লাখাই প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ৫নং করাব ইউনিয়নে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিতরণে চরম অনিয়ম ও অব্যবস্থার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭ নভেম্বর সকালে বিতরণ শুরু হলেও দিনশেষে ১৪২ জন কার্ডধারী তাদের জন্য বরাদ্দকৃত পণ্য পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনায় সুবিধাভোগী মানুষ ও ডিলারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, ২৭ নভেম্বর সকালে করাব ইউনিয়ন পরিষদে টিসিবির পণ্য বিতরণ শুরু হয়। নারী-পুরুষ কার্ডধারীরা সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও বিকেলে নন্দ ট্রেডার্সের টিসিবি ডিলার পিন্টু রায় ঘোষণা করেন, তাদের গোডাউনে পণ্য শেষ হয়ে গেছে এবং ১৪২ জন কার্ডধারী মাল পাননি। এতে বঞ্চিত সুবিধাভোগী মানুষেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ডিলারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

 

টিসিবি ডিলার পিন্টু রায় জানান, তিনি মোট ৬৯৮টি পণ্য পেয়েছেন এবং সেগুলো বিতরণ করেছেন। নতুন কার্ডের জন্য কোনো পণ্য পাননি। তবে সুবিধাভোগীরা অভিযোগ করেন, বাস্তবে নতুন কার্ডধারীরা পণ্য পেলেও পুরাতন কার্ডধারীরা অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এই ১৪২ জন কার্ডধারীর পণ্য গেল কোথায়?

এ বিষয়ে ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বলেন, ইউনিয়নে ৬৯৮টি পণ্যই এসেছিল এবং সেগুলো বিতরণ করা হয়েছে। তবে ১৪২ জন কেন মাল পাননি, সে বিষয়ে তিনি কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।

উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং ১৪২ জন সুবিধাভোগীর পণ্য না পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুপম দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমি দেখছি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচিতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও বিতরণের সংখ্যার মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি থাকাটা গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয়। দ্রুত তদন্ত করে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ১৪২ জন কার্ডধারীর পণ্য নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে জানতে চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে পুনরায় যোগাযোগ করা দরকার।

ট্যাগ:

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনি কমেন্ট করতে ইচ্ছুক?

সাংবাদিকদের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বনাথে নিয়ামতিয়া এইড এন্ড ইন্টারন্যাশনাল ইউকের শীত বস্ত্র বিতরণ

Follow for More!

লাখাইয়ের করাবে টিসিবি পণ্য বিতরণে অনিয়ম: ১৪২ কার্ডধারীর মাল ‘না পাওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ১১:১৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
৩৯

ডিলার-সুবিধাভোগীদের বাকবিতণ্ডা!

লাখাই প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ৫নং করাব ইউনিয়নে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিতরণে চরম অনিয়ম ও অব্যবস্থার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭ নভেম্বর সকালে বিতরণ শুরু হলেও দিনশেষে ১৪২ জন কার্ডধারী তাদের জন্য বরাদ্দকৃত পণ্য পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনায় সুবিধাভোগী মানুষ ও ডিলারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, ২৭ নভেম্বর সকালে করাব ইউনিয়ন পরিষদে টিসিবির পণ্য বিতরণ শুরু হয়। নারী-পুরুষ কার্ডধারীরা সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও বিকেলে নন্দ ট্রেডার্সের টিসিবি ডিলার পিন্টু রায় ঘোষণা করেন, তাদের গোডাউনে পণ্য শেষ হয়ে গেছে এবং ১৪২ জন কার্ডধারী মাল পাননি। এতে বঞ্চিত সুবিধাভোগী মানুষেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ডিলারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

 

টিসিবি ডিলার পিন্টু রায় জানান, তিনি মোট ৬৯৮টি পণ্য পেয়েছেন এবং সেগুলো বিতরণ করেছেন। নতুন কার্ডের জন্য কোনো পণ্য পাননি। তবে সুবিধাভোগীরা অভিযোগ করেন, বাস্তবে নতুন কার্ডধারীরা পণ্য পেলেও পুরাতন কার্ডধারীরা অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এই ১৪২ জন কার্ডধারীর পণ্য গেল কোথায়?

এ বিষয়ে ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বলেন, ইউনিয়নে ৬৯৮টি পণ্যই এসেছিল এবং সেগুলো বিতরণ করা হয়েছে। তবে ১৪২ জন কেন মাল পাননি, সে বিষয়ে তিনি কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।

উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং ১৪২ জন সুবিধাভোগীর পণ্য না পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুপম দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমি দেখছি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচিতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও বিতরণের সংখ্যার মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি থাকাটা গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয়। দ্রুত তদন্ত করে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ১৪২ জন কার্ডধারীর পণ্য নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে জানতে চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে পুনরায় যোগাযোগ করা দরকার।