ঢাকা ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমান দেশে ফেরা নিয়ে যা জানা গেলো

  • Channel Jainta News 24
  • প্রকাশিত: ১১:৪৩:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৬ পড়া হয়েছে

Oplus_131072

৩৫

অনলাইন ডেস্ক।।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হলেও তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখনও দেশে ফিরতে পারছেন না। পরিবার ও দলীয় শীর্ষ সূত্র বলছে, ব্যক্তিগত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণ এবং দেশের ভেতরের স্বার্থান্বেষী চাপই তারেক রহমানের ফেরার প্রধান বাধা।

 

খালেদা জিয়া বর্তমানে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। নিউমোনিয়া এবং জটিল মাল্টি-অর্গান সমস্যার কারণে চিকিৎসা ঝুঁকিপূর্ণ। লন্ডন থেকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তবে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দেশে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

 

দলীয় শীর্ষ সূত্র জানায়, তারেক রহমানের দেশে ফেরা ঠেকাতে একটি পার্শ্ববর্তী দেশের তৎপরতা সক্রিয় রয়েছে। দেশের ভেতরের কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কও তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে জাতীয় নেতাদের হত্যাকাণ্ড-গান্ধী, ইন্দিরা, রাজীব, বেনজির ভুট্টো এবং জিয়াউর রহমান-নিরাপত্তার ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে, বলছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

 

বিএনপির এক স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘তারেক রহমানের নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু দেশ নয়, আন্তর্জাতিক ফ্যাক্টরেও জড়িত। এক মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্ত বড় বিপর্যয়ে নিতে পারে।’-এই কারণেই বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনা, অস্ত্র লাইসেন্সের আবেদন এবং গুলশানের বাসায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি চলছে। তবে পুরো নিরাপত্তা এখনও নিশ্চিত হয়নি।

 

তারেক রহমান বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন স্ট্যাটাসে রয়েছেন। দেশে ফেরার জন্য ট্রাভেল পাসসহ একাধিক প্রশাসনিক ধাপ অতিক্রম করতে হবে। একই সঙ্গে দেশে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর পরিস্থিতিও অনিশ্চিত। অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক ড. পিনাকী ভট্টাচার্য মনে করেন, অতীতে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া তারেকের তাত্ক্ষণিক ফেরায় প্রভাব ফেলতে পারে।

 

দলীয় ভিতরে শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রশ্নেও জটিলতা রয়েছে। দেশে ফিরলে মনোনয়ন, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও চাঁদাবাজি ইত্যাদি বিষয় তারেকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। নির্বাচনপূর্ব মুহূর্তে তাঁর আবির্ভাব দলের ভিতরের বিশৃঙ্খলা আড়াল করতে পারলেও তা ব্যবস্থাপনাগত ঝুঁকি তৈরি করবে।

 

সম্প্রতি তারেক রহমানের বক্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য গণভোট এখন মূল বিষয় নয়; কৃষকের ক্ষতি পোষানো বা আলুর দাম নিয়ন্ত্রণই জরুরি। ড. পিনাকী ভট্টাচার্য মন্তব্যটিকে রাজনৈতিক দর্শনের সংকট হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, জনগণকে শুধু ভোক্তা হিসেবে দেখলে তা হবে অরাজনৈতিককরণ।

 

সব জটিলতার মাঝেও সবচেয়ে মানবিক সংকট হলো মায়ের গুরুতর অসুস্থতা। পরিবার সূত্র জানাচ্ছে, তারেক প্রতিদিন কাঁদছেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে রাতভর কথা বলছেন। তিনি ফিরতে চান, কিন্তু নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাধা বাস্তবতাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।

 

দলীয় সূত্র দাবি করছে, সব বাধা অতিক্রম করে আগামী মাসে দেশে ফেরার প্রস্তুতি চলছে। বুলেটপ্রুফ গাড়ির অনুমোদন, বাসার সংস্কার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার নকশা দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক ফ্যাক্টর, নিরাপত্তা এবং আইনি জটিলতার সমাধান না হলে তাঁর ফেরা আরও বিলম্বিত হতে পারে।

 

নেতাকর্মীরা মা খালেদার পাশে তারেকের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায়। শেষ পর্যন্ত তিনি দেশে ফিরতে পারবেন কি না, তা এখনও সময়ই নির্ধারণ করবে।

ট্যাগ:

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনি কমেন্ট করতে ইচ্ছুক?

সাংবাদিকদের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বনাথে নিয়ামতিয়া এইড এন্ড ইন্টারন্যাশনাল ইউকের শীত বস্ত্র বিতরণ

Follow for More!

তারেক রহমান দেশে ফেরা নিয়ে যা জানা গেলো

প্রকাশিত: ১১:৪৩:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
৩৫

অনলাইন ডেস্ক।।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হলেও তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখনও দেশে ফিরতে পারছেন না। পরিবার ও দলীয় শীর্ষ সূত্র বলছে, ব্যক্তিগত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণ এবং দেশের ভেতরের স্বার্থান্বেষী চাপই তারেক রহমানের ফেরার প্রধান বাধা।

 

খালেদা জিয়া বর্তমানে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। নিউমোনিয়া এবং জটিল মাল্টি-অর্গান সমস্যার কারণে চিকিৎসা ঝুঁকিপূর্ণ। লন্ডন থেকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তবে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দেশে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

 

দলীয় শীর্ষ সূত্র জানায়, তারেক রহমানের দেশে ফেরা ঠেকাতে একটি পার্শ্ববর্তী দেশের তৎপরতা সক্রিয় রয়েছে। দেশের ভেতরের কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কও তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে জাতীয় নেতাদের হত্যাকাণ্ড-গান্ধী, ইন্দিরা, রাজীব, বেনজির ভুট্টো এবং জিয়াউর রহমান-নিরাপত্তার ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে, বলছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

 

বিএনপির এক স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘তারেক রহমানের নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু দেশ নয়, আন্তর্জাতিক ফ্যাক্টরেও জড়িত। এক মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্ত বড় বিপর্যয়ে নিতে পারে।’-এই কারণেই বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনা, অস্ত্র লাইসেন্সের আবেদন এবং গুলশানের বাসায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি চলছে। তবে পুরো নিরাপত্তা এখনও নিশ্চিত হয়নি।

 

তারেক রহমান বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন স্ট্যাটাসে রয়েছেন। দেশে ফেরার জন্য ট্রাভেল পাসসহ একাধিক প্রশাসনিক ধাপ অতিক্রম করতে হবে। একই সঙ্গে দেশে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর পরিস্থিতিও অনিশ্চিত। অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক ড. পিনাকী ভট্টাচার্য মনে করেন, অতীতে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া তারেকের তাত্ক্ষণিক ফেরায় প্রভাব ফেলতে পারে।

 

দলীয় ভিতরে শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রশ্নেও জটিলতা রয়েছে। দেশে ফিরলে মনোনয়ন, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও চাঁদাবাজি ইত্যাদি বিষয় তারেকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। নির্বাচনপূর্ব মুহূর্তে তাঁর আবির্ভাব দলের ভিতরের বিশৃঙ্খলা আড়াল করতে পারলেও তা ব্যবস্থাপনাগত ঝুঁকি তৈরি করবে।

 

সম্প্রতি তারেক রহমানের বক্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য গণভোট এখন মূল বিষয় নয়; কৃষকের ক্ষতি পোষানো বা আলুর দাম নিয়ন্ত্রণই জরুরি। ড. পিনাকী ভট্টাচার্য মন্তব্যটিকে রাজনৈতিক দর্শনের সংকট হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, জনগণকে শুধু ভোক্তা হিসেবে দেখলে তা হবে অরাজনৈতিককরণ।

 

সব জটিলতার মাঝেও সবচেয়ে মানবিক সংকট হলো মায়ের গুরুতর অসুস্থতা। পরিবার সূত্র জানাচ্ছে, তারেক প্রতিদিন কাঁদছেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে রাতভর কথা বলছেন। তিনি ফিরতে চান, কিন্তু নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাধা বাস্তবতাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।

 

দলীয় সূত্র দাবি করছে, সব বাধা অতিক্রম করে আগামী মাসে দেশে ফেরার প্রস্তুতি চলছে। বুলেটপ্রুফ গাড়ির অনুমোদন, বাসার সংস্কার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার নকশা দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক ফ্যাক্টর, নিরাপত্তা এবং আইনি জটিলতার সমাধান না হলে তাঁর ফেরা আরও বিলম্বিত হতে পারে।

 

নেতাকর্মীরা মা খালেদার পাশে তারেকের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায়। শেষ পর্যন্ত তিনি দেশে ফিরতে পারবেন কি না, তা এখনও সময়ই নির্ধারণ করবে।